শেয়ার মানি ডিপোজিটের বিপরীতে ৩৫ কোটি ১৬ লাখ অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করবে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। শেয়ার ইস্যুর জন্য বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটি আগামী ৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় পর্ষদ সভা আহ্বান করেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, কোম্পানিটি অর্থ বিভাগের অনুকূলে ৩৫ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৯২টি অগ্রাধিকারমূলক শেয়ার ইস্যু করবে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য হবে ১০ টাকা। যেখানে শেয়ার মানি ডিপোজিটের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৫১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৯২৮ টাকা। এ কারণে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে ইজিএম করবে। কোম্পানিটির বোর্ড সভায় ইজিএমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) তিতাস গ্যাসের নিট আয় হয়েছে ১৭ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। যদিও এ আয়ের বিপরীতে কোম্পানিটির ১৭ হাজার ৮০২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ৬২১ কোটি টাকা নিট পরিচালন লোকসান হয়েছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২৩ কোটি টাকা। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির ৭১১ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ৪৭ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছিল। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ১৯ পয়সা লোকসান হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ৪৭ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটির পর্ষদ।
আলোচ্য হিসাব বছরে তিতাস গ্যাসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৬৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯৮ টাকা ১৫ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭১ টাকা ৭৫ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল তিতাস গ্যাস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৫০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ১৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় তিতাস গ্যাস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৬৪ পয়সা। সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ২৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিতাস গ্যাসের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৮ হাজার ৩৬৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৮ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৮৩১। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সরকারের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বিদেশী ও ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।